ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১২

আগের পোষ্টের ধারাবাহিকতায়....

মুক্তিযুদ্ধে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ব প্রচার মাধ্যম বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখে। পূর্ব পাকিস্তানের বেশীর ভাগ সংবাদপত্র স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ গনতান্ত্রিক সংগ্রামের মিত্র ছিল। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আন্তর্জাতিক গন মাধ্যমগুলো বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং বাক স্বাধীনতার পক্ষে তাদের সাহসী ভুমিকা রেখে আসছিলেন। ফলশ্রুতিতে অসংখ্য সংবাদকর্মী নির্যাতন ও কারাভোগ করেন এবং কিছু কিছু সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজাকার এবং আলবদর বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী প্রচুর সংখ্যক প্রসিদ্ধ সংবাদকর্মীদের হত্যা করে।

২৫শে মার্চের গনহত্যা শুরুর পর থেকে বেশ কিছু বিদেশী সাংবাদিক তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গনহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করেন।


ছবিঃ সাইমন ড্রিং

স্বাধীনতার দীর্ঘ নয় মাস ধরে ভারত, যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপের আরো কিছু দেশ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রসমূহ পাকিস্তানীদের অমানবিক নৃশংসতা এবং মুক্তিবাহিনীর সাহসী সংগ্রামের উপর নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রচার করতে থাকে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম বিশ্বজনমত গঠনের জন্য বিবেক জাগ্রত করে। যা বিজয় ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।

১৯৭১ এ গনমাধ্যমের এই ভুমিকা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিপক্ষে গনমাধ্যমের অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



বাংলাদেশের অভ্যুদয় - ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১

 

সর্বস্তরের জনসাধারন সমর্থিত বাংলার সাহসী সন্তানদের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশত্র সংগ্রামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণ করে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতের সশত্রবাহিনীর ইষ্টার্ন কমান্ড মিলে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যৌথবাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করে।

 






অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট পাকিস্তানী লেঃ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করে। ঐ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করে।

এভাবেই বিশ্ব মানচিত্র বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

তথ্যসুত্রঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর।
[সকল পর্বই সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশ ১৯৭১]


ছবিঃ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাবর্তন









0
No votes yet

বাংলাদেশ ১৯৭১ সকল স্বত্ব সংরক্ষণ করে
প্রথম পাতা উপরে ফিরে যান